Send Question & Get Answer Send Here

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২। Janas o grrhaganana 2022.

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২৩.

বাংলাদেশে ষষ্ঠ জনশুমারি বা  গৃহগণনা শুরু হয় ১৫ জুন   হতে ২১ জুন যার কার্যক্রম     পরিচালনা করে বিবিএস ।  কিন্তু উত্তর-পূর্বাঞ্চল,  সিলেট,  সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও কুড়িগ্রাম বন্যার কারণে গণনা শেষ হয় ২৮ জুন পর্যন্ত।

জনশুমারি ও গৃহগণনা


জনশুমারির প্রতিবেদন প্রকাশ:

জনশুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন ২৭ জুলাই  বুধবার রাজধানীর  বঙ্গবন্ধু   আন্তর্জাতিক    সম্মেলনকেন্দ্রে 


প্রকাশ  করা  হয় ।  বর্তমানে  দেশে  গত  ১১   বছরে জনসংখ্যা  বেড়েছে ২  কোটির একটু বেশি ।  অথ্যাৎ ২০২২সালে জনসংখ্যা ১৬কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬জন।যা ২০১১ সালে ছিলো ১৪ কোটি ৯৮ লাখ।


জনসংখ্যা বৃদ্ধি হার :২

২০২২সালে জনসংখ্যা গড় বার্ষিক হার ১.২২ শতাংশ, যা ২০১১সালে ছিল ১.৩৭ শতাংশ।


ধর্মীয় অনুপাতে জনসংখ্যা :

বতমানে  দেশে  মুসলমান   প্রায় ৯১ শতাংশ, আর  ৯ শতাংশ  হিন্দু, বৌদ্ধ  খ্রিষ্টান ও  অন্যান্য  ধর্মাবলী । যা ২০১১ সালে  ছিলো   মুসলমান  ধর্ম  অনুপাত ৯০.৩৯ শতাংশ।তবে হিন্দু জনসংখ্যা দিন দিন কমছে ।  দেশে মোট জনসংখ্যা হিন্দু ৭.৯৫  শতাংশ, যা  ২০১১ সালে  ছিল ৮.৫৪ শতাংশ।


২০২২ সালে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা প্রায় সারে ১৬ লাখ, যা ২০১১ সালে ছিল ১৫ লাখ ৮৬ হাজারের একটু বেশি।


নারী ও পুরুষের সংখ্যা:

জনশুমারির  তথ্য  অনুযায়ী  বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পুরুষের চেয়ে নারী বেশি। পুরুষের সংখ্যা এখন  ৮ কোটি ১৭ লাখের একটু বেশি। অপর দিকে নারী ৮ কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার প্রায়। অর্থ্যা পুরুষের চেয়ে নারী ১৬ লাখ ৩৪ হাজার বেশি। লিঙ্গ  অনুপাত  এখন ১০০ঃ৯৮। এর মানে  নারী ১০০ হলে   পুরুষ ৯৮ জন।


তৃতীয় লিঙ্গের সংখ্যা:

জনশুমারি  তথ্য  অনুযায়ী  হিজড়া বা  তৃতীয় লিঙ্গের সংখ্যা ১২ হাজার ৬২৯ জন।


বিবাহিতর সংখ্যা:

জনশুমারি   তথ্য  অনুযায়ী  , দশ     বছর  বা   তদূধ্ব বয়সীদের মধ্যে বিবাহিত মানুষের হার ৬৫   শতাংশের মতো, আর অবিবাহিত ২৯ শতাংশ।           বিধবা বা বিপত্নীক ৫ শতাংশ, তালাকপ্রাপ্ত ০.৪২ শতাংশ। 


জনসংখ্যার ঘনত্ব:

জনশুমারি  ২০২২  প্রতিবেদনে  দেখা  গেছে,  দেশের জনসংখ্যা   হার   বৃদ্ধি   পেয়েছে । এখন  দেশে   প্রতি র্বগকিলোমিটারে  ১  হাজার ১১৯ জন  মানুষ বসবাস করে। ২০১১ সালে ছিল প্রতি  র্বগকিলোমিটারে  ৯৭৬ জন।


উল্লেখ্য, পরিসংখ্যান বিষয়ক ওয়েবসাইট স্ট্যাটিস্টার হিসাব মতে জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের দশম (১০)অবস্থান।আর জনসংখ্যা দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম(৮) অবস্থানে আছে।


পরিবার খানা বা সদস্য সংখ্যা:

২০২২  সালে  জনশুমারি    অনুযায়ী        বাংলাদেশে একান্নবর্তী  পরিবার  ভেঙে  যাচ্ছে। বতমানে খানা  ও   এক  চুলা ব্যবহারকারি  সংখ্যা ৪  কোটি ১০  লাখের বেশি ।  যেটা ২০১১ সালে ছিল  ৩ কোটি ২১ লাখ ৩৭ হাজার।


দেশে পরিবার বাড়লেও কিন্তু পরিবারে  সদস্য  সংখ্যা কমে যাচ্ছে  । এখন  পরিবারের  গড়  সদস্য  ৪ জন ।    যেটা ২০১১ সালে ছিল সাড়ে ৪ জন।


জনশুমারি রিপোর্ট অনুযায়ী নির্ভরশীলতার অনুপাত কমে ৫৩ শতাংশ। এর মানে হলো ১০০ জনে ৫৩ জন অনির্ভরশীল   আর  বাকি  ৫৭  জন   অন্যের   উপর নির্ভরশীল। তবে শহরের  চেয়ে  গ্রামে নির্ভরশীলতার   হার  বেশি ।  ২০১১  সালে যেটা ছিল ৭৩  শতাংশ । 


শহরের জনসংখ্যা ও গ্রামের জনসংখ্যা:

২০২২  সালে  জনশুমারির  রির্পোট  অনুযায়ী   এখন শহরে  বসবাস  করে ৫  কোটি  ২০  লাখ  আর  গ্রামে বসবাস করে  ১১  কোটি  ৩০  লাখ ।  গত  দশ  বছর আগের শুমারির তথ্য অনুযায়ী,শহরে বসবাস করতো  ৩ কোটি  ৩৫  লাখ  আর  গ্রামে  ১১  কোটি  ৪৮  লাখ জনসংখ্যা বসবাস করতো।


এখন  বাংলাদেশে  ভাসমান   জনসংখ্যা  ২২  হাজার ১৮৫  জন। আর ২০১১ সালে জনশুমারি তথ্য ছিল ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৭৪ জন।


২০১৪  সালে BBC  রিপোর্ট অনুযায়ী বস্তিতে  বসবাস কারী সংখ্যা  ২২ লাখের বেশি।  তবে র্বতমানে শুমারি তথ্য অনুযায়ী বস্তির জনসংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। 



সাক্ষরতার হার:

বতমান   বাংলাদেশে   শিক্ষাক্ষেত্রে   ব্যাপক     উন্নতি হয়েছে । ২০২২ সালে  শুমারি রিপোর্ট অনুযায়ী সাক্ষ- রতার হার  ৭৫ শতাংশ । তবে  নারীর  চেয়ে  পুরুষের সাক্ষরতার হার বেশি।পুরুষ যেখানে ৭৭ শতাংশ,নারী সেখানে ৭৩ শতাংশ।


বিদ্যুৎ ও মুঠোফোন ব্যবহারের সংখ্যা:

র্বতমান  যুগে  বাংলাদেশ  একটি   উন্নয়নশীল  দেশ ।বাংলাদেশে   সব  ক্ষেত্রে    উন্নত    হয়েছে   ।  তেমনি প্রযুক্তিতে ও এখন দেশে  প্রায় শতভাগ  মানুষ  বিদ্যুৎ  তের সুবিধা পাচ্ছে।  ২০২২ সালে জনশুমারি  রিপোর্ট অনুযায়ী,  জাতীয় গ্রেডের মাধ্যমে ৯৮ শতাংশ  মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। আর ১.৪৫ শতাংশ  মানুষ সৌর বিদ্যুৎ   ব্যবহার করে ।  ০.৭৫ শতাংশ   মানুষ   বিদ্যুৎ সুবিধার থেকে বঞ্চিত। 


২০২২ সালে জনশুমারি রিপোর্ট অনুযায়ী, মুঠোফোন ব্যবহারকারীর  হার ৫৬  শতাংশ।  ইন্টারনেট  ব্যবহার কারী ৩১  শতাংশ ।  তবে   মুঠোফোন  ও   ইন্টারনেট ব্যবহারে নারীর তুলনায় পুরুষ বেশি।



প্রথম জনশুমারি - ১৯৭৪

বাংলাদেশে  প্রথম জনশুমারি হয়েছিল ১৯৭৪ সালে।তখন  দেশে   জন  সংখ্যা   ছিল ৭  কোটি  ৭৪  লাখ।